বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে (১৯০০ পরবর্তী) মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ‘প্রি-এমপ্টিভ স্ট্রাইক’ বা ‘আগেভাগে আঘাত হানা’র কৌশলটি বারবার আলোচিত হয়েছে। ১৯০৫ সালের পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার উত্থান এবং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৬ সালের ইরান-ইসরাইল সংঘাত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটন তাদের সামরিক হস্তক্ষেপের পেছনে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’র যুক্তি তুলে ধরেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের শুনানিতে ইরানে হামলার যে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ‘প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণ’ নীতিরই প্রতিফলন।
কংগ্রেসের শুনানিতে মার্কো রুবিও দাবি করেন যে, ইরান হামলাটি মূলত একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা ছিল। তাঁর বক্তব্যের মূল নির্যাস হলো:
ইসরাইলি দৃঢ়তা: ইসরাইল ইরানে আঘাত হানতে বদ্ধপরিকর ছিল। ওয়াশিংটন জানত যে ইসরাইল হামলা করবেই।
মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি: রুবিওর মতে, ইসরাইল হামলা চালালে ইরান নিশ্চিতভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর ওপর প্রতিশোধ নিত। এই সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে সরাসরি হামলার সিদ্ধান্ত নেয়।
জবাবদিহিতার দায়: তিনি যুক্তি দেন, হামলা যে-ই করুক, ইরান এর দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই চাপাত। তাই নিষ্ক্রিয় থেকে মার খাওয়ার চেয়ে আক্রমণাত্মক হওয়াই ছিল তাদের কৌশল।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি একসময় সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী ছিলেন, এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে চিরতরে বিরত রাখা। ট্রাম্পের এই ‘স্পষ্ট বার্তা’ বিশ্বকে জানান দিতেই এই আক্রমণাত্মক অবস্থান।
রুবিওর এই ব্যাখ্যায় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক শিবিরে ফাটল আরও স্পষ্ট হয়েছে।
লক্ষ্যহীন যুদ্ধ: সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার একে ‘ট্রাম্পের বেছে নেওয়া যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই সংঘাত শেষ করার কোনো স্পষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা কৌশল প্রশাসনের কাছে নেই।
ইসরাইলের স্বার্থ বনাম মার্কিন স্বার্থ: সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি জটিল যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে। তাঁর মতে, ইরানের হুমকি মূলত ইসরাইলের প্রতি ছিল, যাকে অযথা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রাণহানি: ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ রয়েছেন।
মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি: যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে যে এই সংঘাতে তাদের ৬ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
ইরানি প্রতিরোধ: তেহরানও হাত গুটিয়ে নেই। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ দেশগুলোতে এবং ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তারা পাল্টা প্রতিরোধ জারি রেখেছে।
১৯০০ সালের বিশ্বব্যবস্থায় যুদ্ধের ঘোষণা ছিল দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়, কিন্তু ২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’র অজুহাতে নিমিষেই বড় সংঘাত শুরু হয়ে যাচ্ছে। মার্কো রুবিওর ব্যাখ্যা যদি সত্য হয়, তবে এটি প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হচ্ছে এবং আমেরিকা এখন মূলত ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ সামরিক নীতি অনুসরণ করছে।
তথ্যসূত্র: ওয়াশিংটন কংগ্রেস শুনানি রিপোর্ট, আল জাজিরা ও ফক্স নিউজ (৩ মার্চ ২০২৬)।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও গভীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ পেতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |